রাজনগরে বেপরোয়া দৌরাত্ম্যে ভিটেছাড়া ৩টি পরিবার
মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার

রাজনগরের ফতেহপুর ইউনিয়নের বেতাহুঞ্জা গ্রামে একটি বাহিনীর বহুবিধ তান্ডবে তিনটি পরিবার বাড়ী ছাড়া। অবস্থায় অন্যত্র বসবাসে বাধ্য হয়েছেন।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী আব্দুল হাকিম এক সংবাদ সম্মোলনে ভিটেছাড়া ৩টি পরিবারের সদস্যবর্গ নিয়ে জীবনের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি নিজ নিজ গ্রামের বাড়ীতে উপদ্রবহীন ভাবে বসবাসের দাবী জানিয়েছেন। আব্দুল হাকিম জানান, গত ২০০১ সনের ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাজনগরের মোকামবাজার এবং সন্নিহিত এলাকায় বহুবিধ তান্ডব এবং অপকর্মের নায়ক কমরুদ্দিন বাহিনীর রুষানলে তার এবং দুই নিকট আত্মীয় পরিবার বাড়ী ছেড়ে জীবনের নিরাপত্তার কারণে অন্যত্র বসবাস করেছেন। মামলা মোকদ্দমা এবং সামাজিক বিধি নিষেধের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শনকারী কমরুদ্দিন ও তার লালিত বাহিনীর ধারাবাহিক অর্ত্যাচারের মুখে তারা গ্রামের বাড়ীতে বসবাস করতে পাররেছন না। তিনি আরো জানান, গত ২০১৪ সনে বাড়ীর সীমানা বিরোধ নিস্পত্তিÍ লক্ষে প্রভাবশালী কমরুদ্দিন মধ্যস্থতা কারী হিসেবে তাদের নিকট ২০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করেন।
এ টাকা প্রদানে অস্বীকার করায় কমরুদ্দিন ও তার বাহিনী বাড়ীর সীমানা প্রাচীর ঘেষে খাল খনন করে তাদেরকে রাস্তা দিয়ে চলাচলে নিষেধ করেন। এমতাবস্থায় কমরুদ্দিন গং দের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার আমলি আদালতে একটি মামলা (পিটিশন-১৫/২০১৪) দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী পি. বি. আই. পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে পুলিশের সম্মুখেই কমরুদ্দিনের দল বাদীপক্ষের উপর হামলা চালায়। এই মামলাটি যখন কমরুদ্দিনের গলায় কাটা হয়ে উঠে, তখন তারই প্রচেষ্টায় জেলা নেতৃবর্গের সালিশ বৈঠকে বিষয়টির সমঝোতা হয়। সমঝোতার শর্ত ছিলো যে, আগামীতে কেউ কারো বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হবে না। কিন্তু গত, ২০১৬ সনে আব্দুল হাকিমের ভাই আব্দুল হাসিম কুয়েত থেকে দেশে আসলে পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধকরে দেওয়ার জন্য কমরুদ্দিন ফন্দী আঁটে। এ লক্ষে গত ২০১৭ সনের ৪ জানুয়ারী সন্ধ্যায় মোকাম বাজার থেকে ফেরার পথে কমরুদ্দিন বাহিনী তাদের উপর হামলা চালায়।
তাতে প্রবাসী হাসিম রক্ষা পেলেও ভাই আব্দুল হাকিম মারাত্মক ভাবে আহত হন। এ নিয়ে রাজনগর থানায় হামলা হলে কমরুদ্দিন সহ আরও তিন জন সাময়িক ভাবে হাজত বাস করে । আব্দুল হাকিম বলেন- কারামুক্তির পর মামলার খরচ বাবত কমরুদ্দিকে ৭০ হাজার টাকা না দিলে হাকিম ও তার সহযোগিরা গ্রামে বসবাস করতে পারবে না বলে ঘোষনা করেন । তারপর থেকে ৩টি পরিবারের লোকজন রাস্তায় বের হলে কমরুদ্দিনের বাহিনী অশ্রাব্য গালিগালাজের পাশাপাশি অত্যাচার অব্যাহত রাখে । দায়েরকৃত মামলাটি উঠিয়ে আনার জন্যও হুমকি দিচ্ছে। এমতাবস্থায় তারা গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখ্য গত ২০০১ সনের নির্বাচনের পর মোকামবাজার এলাকায় যে শ্বেতসন্ত্রাস চলেছিল, তার অন্যতম হোতা কমরুদ্দিন। গত ২০১৪ সনে মোকামবাজারের দাঙ্গায় ছাত্রলীগ নেতা শাহীন হত্যা এবং ২৬টি দোকান লুটপাট মামলায় কমরুদ্দিন সহ তার বাহিনীর ৮/১০ জন আসামী হিসেবে চিহ্নিত। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে গরু চুরির কয়েকটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে কোর্ট কর্তৃক নির্দেশিত পৃথক পুলিশী তদন্তে কমরুদ্দিন ও তার ছেলেরা দাগী অপরাধী হিসেবে সনাক্ত হবার পরও তাদের দাপট এবং অত্যাচার কোন ভাঁটা ধরেনি।